
অনুপ্রেরণার আরেক নাম
রকিবুল হাসান
প্রিয় শচীন টেন্ডুলকার
যেভাবে প্রিয় টেন্ডুলকার কবে কীভাবে আমার প্রিয় ব্যাটসম্যানে পরিণত হলেন এটা বলতে পারব না
তবে এটুকু বলতে পারি টেলিভিশনে খেলা দেখার শুরু থেকে একজন ব্যাটসম্যানই আমাকে সব সময় টেনেছেন শচীন টেন্ডুলকার
আমাদের প্রজন্মের অনেক ব্যাটসম্যানের ক্রিকেটে আসার অনুপ্রেরণাই হলেন টেন্ডুলকার
প্রথম দেখা সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে
ওই প্রথম তাঁকে কাছ থেকে দেখলাম তাঁর বিপক্ষে খেললাম
মাঠে তো তাঁকে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় হিসেবেই দেখেছি
কিন্তু একটা আবেগও কাজ করছিল
চট্টগ্রামে খেলা শেষে তিনি আমাদের সঙ্গে ব্যাটিং নিয়ে কথা বলেছিলেন
একটা কথা খুব মনে পড়ে সব সময় নিজের খেলাটা খেলবে
পরিস্থিতি যা-ই হোক নিজের খেলা ভুললে চলবে না
ইচ্ছে আছে এরপর সুযোগ পেলে তাঁর সঙ্গে অনেক সময় নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছে আছে
শুধু ব্যাটিং নয় তাঁর লাইফস্টাইল যেভাবে নিজেকে ধরে রেখেছেন—এসব নিয়েও কথা বলতে চাই

স্বপ্নের ক্রিকেটার
অলক কাপালি
প্রিয় শচীন টেন্ডুলকার
যেভাবে প্রিয় ১৯৯৬ বিশ্বকাপেই সম্ভবত টেন্ডুলকারকে ভালোভাবে দেখেছি
এর আগেও ভালো লাগত
কিন্তু ওই বিশ্বকাপেই তাঁর ভক্ত হয়ে গেলাম
কেনিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটো ফিফটি ৭০ ও ৯০ তারপর আবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি! এর পর থেকে টেস্ট হোক আর ওয়ানডে শচীন মানেই রান আর রান
অবিশ্বাস্যভাবে এখনো সেই আগের মতো রান করে যাচ্ছেন
ওঁর ভক্ত না হয়ে উপায় আছে
প্রথম দেখা এশিয়া একাদশের হয়ে সুনামিদুর্গত মানুষের জন্য ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলাম মেলবোর্নে
ওখানেই প্রথম কাছ থেকে দেখলাম
এখনো স্বপ্নের মতো মনে হয়
আমি আর শচীন পাশাপাশি বসে আছি! প্রথম তো কথাই বলতে পারিনি
পরে টুকটাক কথা হয়েছে
শচীন মানুষটা অন্য রকম
সেধে সেধেই আমার ব্যাটিং নিয়ে অনেক কথা বলেছিলেন
ইচ্ছে করে পরে আমি ভারতের বিপক্ষে যখনই খেলেছি তিনি দলে ছিলেন না! আমার কপালটা খারাপ
এরপর তো অনেক দিন জাতীয় দলে খেলাই হয়নি
আবার সুযোগ পেলে ওঁর সঙ্গে অনেক অনেক কথা বলার ইচ্ছে আছে
আমরা সাধারণ ব্যাটসম্যানরা দুদিন না যেতেই বুড়ো হয়ে যাই
ব্যাট হাতে শচীন কীভাবে এখনো এতটা তরুণ এটা জানতে চাই

মেজাজি এক ব্যাটসম্যান
তামিম ইকবাল
প্রিয় যুবরাজ সিং
যেভাবে প্রিয় কেনিয়ায় আইসিসি ট্রফিতে ওর অভিষেক দেখেই ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমবারের মতো ব্যাট করতে নেমেছিল
৮০ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলল
কী ইনিংস! অমন আক্রমণাত্মক আর মেজাজি ব্যাটিং খুব দেখিনি
তার ভক্ত না হয়ে পারা যায়
প্রথম দেখা পোর্ট অব স্পেনে
২০০৭ বিশ্বকাপের ম্যাচে
প্রথম দেখাতেই ওকে হারিয়েছি
ও ৪৭ রান করেছিল আমি ৫১
সবচেয়ে বড় কথা যুবরাজদের ভারতকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ই করে দিয়েছিলাম আমরা
এখনো দেখা হলে কথায় কথায় ও সেই ম্যাচের প্রসঙ্গ তোলে
এখন যেমন যুবরাজ আমাদের মাশরাফি ভাইয়ের খুব ভালো বন্ধু
আমার সঙ্গে অত ভালো সম্পর্ক না হলেও নিয়মিত যোগাযোগ আছে
মাঝে মাঝেই মেসেজ দেয় ফোনে
মাঝে রান পাচ্ছিলাম না তখন লিখেছিল ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রতিভা তুমি
তুমি রানে ফিরবেই
মাঝে মাঝে টিপসও দেয়
সেবার ওদের সঙ্গে যখন দেড় শ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়ে গেলাম বলেছিল আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে গেলে আরও বড় ইনিংস খেলতে পারতে

অবিশ্বাস্য এক ব্যাটসম্যান
জুনায়েদ সিদ্দিক
প্রিয় অ্যাডাম গিলক্রিস্ট
যেভাবে প্রিয় একটা লোক সাত নম্বরে নেমে মহাবিপদ থেকে দলকে টেনে তুলে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ম্যাচ জেতাচ্ছে দিনের পর দিন এই দৃশ্য দেখলে কার না ভক্ত হতে ইচ্ছে করে! টেস্টে সাত নম্বরে খেলতে নেমে ডাবল সেঞ্চুরি করেছে সেঞ্চুরি তো নিয়মিতই করত
আবার সেই লোকই ওয়ানডেতে ওপেন করতে গিয়ে বোলারদের নাস্তানাবুদ করে দিত
গিলক্রিস্ট তো অবিশ্বাস্য এক ব্যাটসম্যান
প্রথম দেখা এই সেদিন লর্ডসে আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামছি তখন ও আমাদের ড্রেসিং রুমে এসেছিল
কী আফসোস যে হচ্ছিল! কথা বলতে পারলাম না
ইচ্ছে করে ছয়-সাত বছর আগে পাইলট ভাই অস্ট্রেলিয়া থেকে গিলক্রিস্টের এক জোড়া ব্যাটিং প্যাড এনে দিয়েছিল তাতে ওর সই আছে
প্যাড জোড়া আমার বাসায় তোলা আছে
কোনো দিন সুযোগ পেলে ওকে দেখাব
আর কথা বলার সুযোগ পেলে ব্যাটিং নিয়ে আলাপ করতে চাই

যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম
শাহাদাত হোসেন
প্রিয় শোয়েব আখতার
যেভাবে প্রিয় ওর অভিষেক তো দেখিনি
তবে শোয়েবকে দেখে আমি প্রথম চমকে উঠেছিলাম ভারতের বিপক্ষে সেই কলকাতা টেস্টে
পরপর দুই বলে দ্রাবিড় আর টেন্ডুলকারকে বোল্ড করে স্ট্যাম্প ছিটকে দিল! এরপর শারজায় কী একটা টুর্নামেন্টে কোকাকোলা টুর্নামেন্ট-১৯৯৯ ইংল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে একই রকম দুর্দান্ত পেস
সত্যি কথা হলো ওর ওই মারাত্মক আগ্রাসী বোলিং দেখেই আমি আরও জোরে বল করতে চাইতাম
আমার স্বপ্নের ক্রিকেটার বলতে পারেন শোয়েবকে
প্রথম দেখা ভারতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সময়
সেবার কথাবার্তা কিছু হয়নি
পরে বাংলাদেশে যখন এনসিএল খেলতে এল তখন কথাবার্তা হয়েছে
এমনিতে শোয়েব আখতারকে দূর থেকে দেখলে কেমন রাগী মনে হয় না আসলে কিন্তু লোকটা ভালো
খুবই মজা করে
অনেক আন্তরিক কথাবার্তা বলে
ইচ্ছে আছে অনেক কথাবার্তা হলেও তার সঙ্গে বোলিং নিয়ে কখনো কথা হয়নি
এনসিএলে আসলে আমরা দুজন দুই দলে খেলেছি
তাই এসব নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাইনি
এরপর সুযোগ পেলে হয়তো বোলিং নিয়ে কথা বলব

ছোটবেলার নায়ক
সাকিব আল হাসান
প্রিয় সাঈদ আনোয়ার
যেভাবে প্রিয় আসলে ঠিক প্রিয় ক্রিকেটার বলতে যা বোঝায় এখন আমার আর তেমন কেউ নেই
এখন আমার কাছে আন্তর্জাতিক সব ক্রিকেটার প্রতিপক্ষ আর আমাদের ক্রিকেটাররা সতীর্থ হাসি
তাই প্রিয় হয়ে ওঠা মুশকিল
তবে বলতে পারি ছোটবেলার প্রিয় তারকার কথা
